স্থবিরতার কাব্য

প্রস্তরমানুষ আমি, বুকে গাঁথা হয়
রক্তিম শিলালিপি, বয়ে যায় অনন্ত সময়
প্রতীক্ষায়

Friday, March 2, 2018

ভালো লাগা কবিতাঃ আমি এই। সুনীল বসু


আমি এই। সুনীল বসু

তুমি কি করছ ভূতনাথ? লিখছ টিখছ?
হ্যাঁ, হ্যাঁ, সত্যিই শুভাশিস, আমি গাড়ি কিনতে পারিনি, না করেছি বাড়ি
জননেতা কোন্‌ দূর, জনতার দৈত্যের হাত থেকে পালিয়ে গিয়েছি
কলকাতা থেকে কিছু দূরে আধা পাড়াগাঁয়ে,
রাত ভোর হলে কলাগাছের পাতায় শিশির ঝরা দেখি,
ওতেই শিহরণ খেলে যায়।
সেই কবে এক রুগণ কবিতার নারীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে অবধি  
খরচের আর শেষ নেই,
রাত্রে গিয়ে ঠায় বসে থাকি তারার বাগানে।
গুড়গুড় করে মেঘ ডেকে উঠলে বুকের মধ্যে হই হই করে শুনি
ভাস্কো দা গামার পালতোলা জাহাজের কামানগর্জন।
বিদ্যুৎ চমকালে দেখি শেক্সপীয়রের নাটকের বীভৎস বুড়ি ডাইনিদের চুল ছেঁড়াছিঁড়ি,
লম্বা লম্বা নখের বাহার।
ঘরে বসে জানি না আকাশকে কেন দেখি ভূমধ্যসাগর--  
এক এক দিন মাঘী পূর্ণিমায় দেখি সাদা ফেনায়িত প্রকাণ্ড আকাশব্যাপী রাজহাঁস--
ফেলে যায় নিটোল টলটলে সোনার ডিম।  
শুভাশিস, গাড়ি কিনতে পারিনি, করতে পারিনি বাড়ি, জননেতা হওয়া অসম্ভব।
শুধু ছোট ছোট কল্পনার লাল ইঁট গাঁথি,
আর চুরমার করি।
কিছুই হওয়া হয়নি। ট্রেনে করে আসি আর যাই।
রুগণ কবিতার-নারীর চিকিৎসায় আমি ফতুর হয়ে গেলাম। হয়তো জীবনই চলে যাবে...
তোমরা বেশ আছ! শুভাশিস, সুনন্দ, আশুতোষ...

আমি এই।  

No comments:

Post a Comment