স্থবিরতার কাব্য

প্রস্তরমানুষ আমি, বুকে গাঁথা হয়
রক্তিম শিলালিপি, বয়ে যায় অনন্ত সময়
প্রতীক্ষায়

Wednesday, May 22, 2019

Robinson Crusoe-র জীবন

ক্লাস সেভেনে রবিনসন ক্রুশো আমাদের ইংরাজী র‍্যাপিড রিডার ছিল
প্রায় বিকেল হয়ে আসা দুপুরে, স্কুলবাড়ির একতলার কোণের ঘরে ইংরাজী স্যার আমাদের রবিনসন ক্রুশো পড়াতেন সামনের মাঠের ওপর রোদ পড়ে আসত আকাশে দেখতাম এক দুটো পাখি ঘুরে ঘুরে চক্কর কাটছে একটা কুকুর অলসভাবে শুয়ে আছে মাঠের মধ্যে মাঠের শেষে গাছেদের জটলা, ঘন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সব সার বেঁধে স্যার পড়ে শোনাতেন, কিভাবে ক্রুশো দূর জনমানবশূন্য দ্বীপে একা একা খাবার জোগাড় করছে, পানীয় জল খুঁজছে, মাছ ধরছে
সেই কিশোরবেলায় কল্পনার পাখায় ভর করে উড়তে বেশ লাগত দূরের গাছের সারির দিকে তাকিয়ে ভেবে নিতাম, এই যেন ড্যানিয়েল ডিফোর গল্পে বর্ণিত সেই নির্জন দ্বীপের জঙ্গল এর মধ্যে একটা জাহাজডুবি মানুষ এসে উঠেছে  একেবারে একলা বেচারি, সঙ্গে কোনো আত্মীয় নেই, কোনো বন্ধু নেই
স্যারের গল্পে ক্রুশো একলা ঘরকন্না করতে শিখত, একলাই কুটির বানাত, একা একাই কিছু শাকসবজি, শস্যদানা চাষ করার চেষ্টা করত তখনকার অনুভূতিপ্রবণ মনে ক্রুশোর প্রতি মায়া হত, কষ্ট হত ইস্‌, সব কেমন একা-একা!
এখন প্রতিদিন চারপাশের মানুষ, প্রায়-মানুষগুলোর স্বরূপ বুঝতে বুঝতে, সভ্য-ভদ্র মুখোশের আড়ালে তাদের ঘৃণা- বিতৃষ্ণা জাগানো বিকৃত মুখগুলো চিনতে চিনতে ক্রমাগত ক্লান্ত হয়ে যখন চুপ করে বসে থাকি, তখন ক্রুশোর প্রতি ঈর্ষা হয় ইস্‌, সব কেমন একা-একা! 

No comments:

Post a Comment