স্থবিরতার কাব্য

প্রস্তরমানুষ আমি, বুকে গাঁথা হয়
রক্তিম শিলালিপি, বয়ে যায় অনন্ত সময়
প্রতীক্ষায়

Sunday, September 9, 2018

অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে...

প্রথম যখন তাঁকে দেখি, তখন সবথেকে বেশী নজর কেড়েছিল তাঁর চোখদুটো। অন্তর্ভেদী দৃষ্টি-- কথাটা আগে বইয়ের পাতায় পড়া থাকলেও, এই প্রথম দেখলাম তা বলতে কি বোঝায়। আর দেখলাম, সবসময় তাঁর চোখদুটো কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে; এই ঘরভর্তি লোক, ক্যামেরার মুহুর্মুহু flash- ঝলকানি-- এসব কিছুই সেই অবিরত অনুসন্ধানকে এক চুল বিব্রত করতে পারছে না। ্তখন আমার নবম শ্রেণী; তাঁর লেখা কবিতা সেভাবে পড়ে ওঠা হয়নি তখনও; পাঠ্যবইয়ের রবীন্দ্রনাথ, সুকান্ত, জীবনানন্দ-- এঁদের নামই কবি হিসাবে তখন পরিচিত আমাদের কাছে। তবে তাঁর একটি উপন্যাস হাতের কাছে পেয়ে পড়ে ফেলেছি; অল্পবয়সে উপন্যাসের অন্তরের কথা তত বুঝতে না পারলেও, লেখার ধরণ মুগ্ধ করেছে আমাকে। কল্পনায় আমি দেখতে পেয়েছি কলকাতা থেকে কিছু দূরে, রেলরাস্তার ওপারের সেই শান্ত মফস্বল শহরটিকে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, জোনাকি-জ্বলা মাঠের মধ্যে একটি বাড়ি; আর সেই বাড়ির অন্ধকার দরজায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে প্রদীপের মত একটি মেয়ে। অবাক হয়ে অনুভব করেছি, উপন্যাসের সাজানো অক্ষরগুলোর আড়াল থেকে যেন উঁকি দিচ্ছে একটি নিটোল কবিতা। এমনও লেখা যায় তাহলে! সেই উপন্যাস নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে হলেও, সাহস হয়নি; আর সময়ও ছিল অল্প। বাস্তবিকই, একটা school exhibition-এ তিনি আর কতটুকু সময় দিতে পারেন। তবুও দ্রুত সব কিছু ঘুরে দেখে শেষে যখন তিনি চলে যাবার উপক্রম করলেন, তখন সবার দেখাদেখি আমিও সই নেবার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম; হাতে কোনো দামী অটোগ্রাফ-ডায়েরি নয়, খাতার পেছন থেকে ছিঁড়ে নেওয়া একটুকরো কাগজ মাত্র। কাগজটা নিয়ে তিনি স্থিরভাবে আমার দিকে চেয়ে রইলেন কয়েক মুহূর্ত; ওই যে বলেছিলাম, অন্তর্ভেদী দৃষ্টি-- সেই চোখে। আমার মনের ভেতরের সব কথা তিনি যেন পড়তে পারছেন। তারপর কাগজটায় লিখে দিলেন-- "জয় জেঠুর সই, হারিয়ে ফেলবই।" তার নীচে সই করলেন নাম।

সেই কাগজ এখন কোথায়, সে খবর জানতে চাইলে লজ্জা পাব। কারণ, জয় গোস্বামী-র সেই মূল্যবান সই, আমি অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। 

No comments:

Post a Comment