(২১/০১/২০১৮)
আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন, ঠিক কি হয়েছিল। বলছি।
আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন, ঠিক কি হয়েছিল। বলছি।
সন্ধ্যেবেলা,
ক্লান্তদেহে বাড়ি ফিরলাম।
দেখি বন্ধু বসে আছে। মুখে অপরাধী হাসি।
এতদিন পরে দেখা, তবু দেখামাত্র মাথায় রক্ত চড়ে গেল।
কর্কশকণ্ঠে জিগ্যেস করলাম—
কি ব্যাপার? বাইরে বড় করে লেখা দেখিসনি—‘মানুষ প্রবেশ নিষেধ’?
ও হাসল—পাঁচিল টপকে ঢুকেছি। তোর গেটে তো সবসময়ই তালা।
আমার মনে পড়ে গেল, বৃদ্ধ রাজমিস্ত্রি বলেছিল বটে—বাবু, সাইনবোর্ডে কাজ হয়না।
ক’জন ঠিকভাবে পড়তে জানে?
কাঁটা লাগান, ভাল কাঁটা এনে দিতে পারি আমি—
খুব আন্তরিকভাবে বন্ধু জানতে চাইল—তারপর, কেমন আছিস বল?
স্থির চোখে চেয়ে আমি ওকে বললাম—
এখানে কোন ধান্ধায়? ধান্ধাবাজি আগের মতই চালাচ্ছিস নিশ্চয়ই?
লোকের নিন্দে, সুযোগ পেলেই পিছনে লাগা—এসব ছাড়িসনি তো?
আহত গলায় ও উত্তর দিল—
কেন এসব বলছিস? আমি আর সেরকম নেই। তখন বয়েস কম ছিল—
দাঁতে দাঁত চেপে আমি বললাম, তোদের আবার বয়েস বাড়ে নাকি?
তোরা শুধু বুড়ো হোস, আর মরে যাস।
ও খুক খুক করে কাশছে। কাশতে কাশতেই বলল, এখন অনেক বদলে গেছি রে।
—কিরকম বদলেছিস? কারো ভালো দেখলে চোখ টাটায় না আর?
যা হোক করে তাকে টেনে নামাতে আর জান লাগাস না?
বন্ধু মাথা নীচু করে আছে।
আমার কথাগুলো ওকে বেশ আঘাত দিচ্ছে, যা বুঝলাম। না, কষ্ট নয়; আমার তৃপ্তি হল।
—আর মেয়েবাজি? অবশ্য মেয়ে নয়, তোর কাছে তো সবই মাল, কি বলিস?
তোলো আর ছাড়ো, অ্যাঁ? মনে আছে সেসব?
ও মুখ তুলল। ওর দু’চোখে কি জল? অনুশোচনার অশ্রু?
পাত্তা দিলাম না।
—আমি অনেক টায়ার্ড। কি চাস সেটা জলদি বল।
বন্ধু মুখ খুলল কিছু বলবার জন্য, কিন্তু আবার কাশির দমক এল একটা।
কোনো শক্ত অসুখে ভুগছে নাকি?
ওর চোখদুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে।
কাশতে কাশতে কাতরভাবে ও বলল—একটু জল খাওয়াবি?
ওর মুখে সত্যিই আমি কেমন একটা তৃষ্ণার ছায়া দেখতে পেলাম।
এবং, এই প্রথম, এক মুহূর্তের জন্য,
আমার মনে আবার করুণার উদয় হল।
আমি জল আনতে পিছনে ফিরলাম—
তৎক্ষণাৎ আমার কানে ভেসে এল ইস্পাতে-ইস্পাতে ঘর্ষণের তীক্ষ্ণ জান্তব শব্দ।
তার পরের ঘটনা আপনারা সবাই জানেন; পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যেমনটা লেখা ছিল—
“এ ক্লিয়ার কেস অফ ব্যাকস্ট্যাবিং”
ক্লান্তদেহে বাড়ি ফিরলাম।
দেখি বন্ধু বসে আছে। মুখে অপরাধী হাসি।
এতদিন পরে দেখা, তবু দেখামাত্র মাথায় রক্ত চড়ে গেল।
কর্কশকণ্ঠে জিগ্যেস করলাম—
কি ব্যাপার? বাইরে বড় করে লেখা দেখিসনি—‘মানুষ প্রবেশ নিষেধ’?
ও হাসল—পাঁচিল টপকে ঢুকেছি। তোর গেটে তো সবসময়ই তালা।
আমার মনে পড়ে গেল, বৃদ্ধ রাজমিস্ত্রি বলেছিল বটে—বাবু, সাইনবোর্ডে কাজ হয়না।
ক’জন ঠিকভাবে পড়তে জানে?
কাঁটা লাগান, ভাল কাঁটা এনে দিতে পারি আমি—
খুব আন্তরিকভাবে বন্ধু জানতে চাইল—তারপর, কেমন আছিস বল?
স্থির চোখে চেয়ে আমি ওকে বললাম—
এখানে কোন ধান্ধায়? ধান্ধাবাজি আগের মতই চালাচ্ছিস নিশ্চয়ই?
লোকের নিন্দে, সুযোগ পেলেই পিছনে লাগা—এসব ছাড়িসনি তো?
আহত গলায় ও উত্তর দিল—
কেন এসব বলছিস? আমি আর সেরকম নেই। তখন বয়েস কম ছিল—
দাঁতে দাঁত চেপে আমি বললাম, তোদের আবার বয়েস বাড়ে নাকি?
তোরা শুধু বুড়ো হোস, আর মরে যাস।
ও খুক খুক করে কাশছে। কাশতে কাশতেই বলল, এখন অনেক বদলে গেছি রে।
—কিরকম বদলেছিস? কারো ভালো দেখলে চোখ টাটায় না আর?
যা হোক করে তাকে টেনে নামাতে আর জান লাগাস না?
বন্ধু মাথা নীচু করে আছে।
আমার কথাগুলো ওকে বেশ আঘাত দিচ্ছে, যা বুঝলাম। না, কষ্ট নয়; আমার তৃপ্তি হল।
—আর মেয়েবাজি? অবশ্য মেয়ে নয়, তোর কাছে তো সবই মাল, কি বলিস?
তোলো আর ছাড়ো, অ্যাঁ? মনে আছে সেসব?
ও মুখ তুলল। ওর দু’চোখে কি জল? অনুশোচনার অশ্রু?
পাত্তা দিলাম না।
—আমি অনেক টায়ার্ড। কি চাস সেটা জলদি বল।
বন্ধু মুখ খুলল কিছু বলবার জন্য, কিন্তু আবার কাশির দমক এল একটা।
কোনো শক্ত অসুখে ভুগছে নাকি?
ওর চোখদুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসবে।
কাশতে কাশতে কাতরভাবে ও বলল—একটু জল খাওয়াবি?
ওর মুখে সত্যিই আমি কেমন একটা তৃষ্ণার ছায়া দেখতে পেলাম।
এবং, এই প্রথম, এক মুহূর্তের জন্য,
আমার মনে আবার করুণার উদয় হল।
আমি জল আনতে পিছনে ফিরলাম—
তৎক্ষণাৎ আমার কানে ভেসে এল ইস্পাতে-ইস্পাতে ঘর্ষণের তীক্ষ্ণ জান্তব শব্দ।
তার পরের ঘটনা আপনারা সবাই জানেন; পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যেমনটা লেখা ছিল—
“এ ক্লিয়ার কেস অফ ব্যাকস্ট্যাবিং”
No comments:
Post a Comment