(১২/০১/২০১৮)
জন্মের ঊষালগ্নে একবার
জন্মের ঊষালগ্নে একবার
কানে এসেছিল তোমার আহ্বান—
“এসো, মানুষ হও”
তারপর ক্ষয়ে গেছে বহু ব্যর্থকাম আয়ু
ইতিমধ্যে আমি শিখেছি নিরর্থক বাক্যালাপ (বা নিছক শব্দদূষণ)
ধূর্ত শৃগালের চাতুর্যে রপ্ত করেছি প্রবঞ্চনা ও শঠতা—
জীবনের আরো সব গুঢ় ছলাকলা
(এমনকি তোমাকে
অবজ্ঞাও দেখাতে শিখেছি
কেননা তোমার নাম উচ্চারণ আমাকে অপাংক্তেয় করে তুলতে পারে)
তুমি বলেছিলে, ফল্গুধারা হও,
তোমার সাবধানবাণী হেলায় তুচ্ছ করে
আমি সরবে মূলস্রোতে মিশতে চেয়েছি
আমি তো শুনেছি তার বিদ্রূপ
গা থেকে যার ঘামের মত অর্থ আর লোভের কটু গন্ধ আসে
আমি তার চোখে গ্রহণীয় হতে চেয়েছি
তার স্বীকৃতির লোভে আমি বিসর্জন দিয়েছি নিজস্বতা
মাথায় পরেছি ভাঁড়ের টুপি
দু’গালে মেখেছি
উদগ্র রং
গড্ডালিকা প্রবাহের চৌম্বক আকর্ষণে
দিগ্ভ্রান্ত আমি এভাবেই স্বস্তি খুঁজে নিয়েছি
তবু, কোনো গভীর
রাত্রে যখন একাকী নিজের পাশে শুই
সহসা এক ঝড়ের শব্দ শুনি
ক্ষিপ্রহস্তে বন্ধ করি সব অর্গল, সভয়ে মুখ গুঁজে রাখি শয্যায়
সমস্ত বারণ ঠেলে অনিবার্য ঝঞ্ঝা তবু আসে
হাহাকারে উড়ে যায় আমার সযত্নে লালিত কুৎসিত মুখোশ
আর মেঘমন্দ্র স্বরে আবার উচ্চারিত হয় সেই মহাবাণী—
"এসো, মানুষ হও"
মুহূর্তে এক বিস্ফোরণ
সুতীক্ষ্ণ শলাকা যেন বিঁধে যায় বুকের শীতল পাথরে
আহত রণ-অশ্বের মত আমি এসে পড়ি রাজপথে
হৃদয়ে ঝড়ের হ্রেস্বাধ্বনি
নীলকণ্ঠের উদাত্ত আহ্বান আমার শিরায় শিরায়
ফেনিল নিঃশ্বাসে পান করে নেব পৃথিবীর সব দুঃখ যন্ত্রণা
কৃষ্ণনীল আকাশের প্রতিটি দীপ্য নক্ষত্র আমাকে ডাকে— এসো, মানুষ হও
উন্মাতাল বাতাসের প্রতিটি আনন্দ লহরী আমাকে ডাকে— এসো, মানুষ হও
মাতৃরূপী মৃত্তিকার প্রতিটি সহিষ্ণু বৃক্ষ আমাকে ডাকে— এসো, মানুষ হও
আমি ছুটে ছুটে চলি অবিরাম
No comments:
Post a Comment